বাংলা প্রেমের কবিতা ২০২০

By | November 17, 2019

বাংলা প্রেমের কবিতা ২০২০

 

মস্ত গাছ ও ছােট্ট পাখি
এক ছিল মস্ত উঁচু গাছ, আর তার চারপাশে ছােট্ট ছােট্ট বাড়ি।বাড়িগুলাের দিকে তাকিয়ে গাছ।
ভাবত —
ভয় ভাবনা নেইকো আমার কিছু ।
সবার থেকে লম্বা আমি , সবার থেকে উঁচু ।।

একদিন সকালবেলায় গাছ দেখলে , সামনের জমিটায় অনেক লােহা-লক্কড়, যন্ত্রপাতি আর
লােকজন। দেখতে দেখতে সেই লােহা-লক্কড় দিয়ে লােকজনেরা এক প্রকান্ড লােহার থাম তৈরি
করে ফেললে। থামটা হল গাছের চেয়ে আরও অনেক অনেক উচু ।

গাছের মনে খুব দুঃখু হল। তার ডাল বেয়ে পাতা বেয়ে টপটপ করে জল পড়তে লাগল।
এক ছােট্ট পাখি সেখান দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল। গাছকে কাঁদতে দেখে পাখি বললে —
মিথ্যে কেন ফেলছ চোখের জল ?
ওর কি আছে তােমার মতাে ডাল-পালা ফুল-ফল ?
গাছ বললে , তাই তাে , ঠিকই তাে , সত্যিই তাে !!
এমনি বােকা আমি।

কাঁদতে কাঁদতে মরেই যেতুম , ভাগ্যি ছিলে তুমি ।
এই বলে , রােদের ফুলকাটা হাওয়ার রুমাল দিয়ে চোখের জল মুছে-টুছে গাছ মনের আনন্দে
ডাল নাচাতে লাগল , আর ছােট্ট পাখি তার ওপর বসে বসে দোল খেতে লাগল ।


বাঘা
একটা ছেলে ছিল।
সেই ছেলেটা একদিন ভাত খেতে
বসে মাকে বললে, আমি
বাঘভাজা খাব।
মা বললে বাঘভাজা খেতে হলে।

উনুন চাই অ্যাত্তোখানি, কড়া চাই
অ্যাত্তোবড়াে, সরষের তেল চাই
এক চৌবাচ্চা!! আমি গরীব মানুষ
অতাে সব কোথায় পাব বাবা?
ছেলে মুখ গোঁজ করে রইল।

অগত্যা মা বললে, আচ্ছা আমি
এদিকে সব যােগাড় দেখি গে।তুমি
শিকারী-বাড়ি গিয়ে বাঘের খোঁজ
খবর কর।

ছেলেটা নাচতে নাচতে
শিকারী-বাড়ি গেল।
শিকারী সব শুনে হাে হাে করে।
হাসতে লেগেছে,তখন শিকারীর মা
এসে তাকে খুব ধমক দিয়ে।

ছেলেটাকে ঘরের ভিতরে ডেকে
নিয়ে গিয়ে বললে, তুমি এতােটুকুন
ছেলে, তুমি কি আর এতবড় বাঘ
খেতে পার বাবা !! তােমার জন্য
আমি একটি কচি বাঘ ভেজে
দিচ্ছি, খুশিমতন খাও।

এই বলে ক্ষীর ছানা এলাচ কঞ্জুর
দিয়ে একটি ছােট্টো বাঘ গড়ে
সেইটি ভেজে খােকাকে খেতে
দিয়েছে।

এদিকে হয়েছে কি … শিকারী
ঘরের পাশে এক সুরঙ্গের মধ্যে
থাকত এক বাঘিনী আর তার
| বাচ্চা । ছেলেটা যেই পা খেয়েছে,
| অমনি বাঘের বাচ্চাটা মাকে বলছে
, মা , পা গেল , পা গেল। বাঘিনী
দেখছে তাই তাে!!

| এমনি করতে করতে ছেলেটা যেই
মাথা খেতে হাঁ করেছে, তখন
বাঘিনী দেখলে সব তাে যায়!
| বাঘিনী এক লাফ দিয়ে পড়েছে

ছেলেটার সামনে , —
দোহাই বাবা, ছেড়ে দে।
তখন ছেলেটা বললে, যদি রােজ
রাত্রে আমাদের বাড়ি পাহাড়া দাও,
আর যে চোর আমাদের সব চুরি।

করে নিয়ে গেছে তার ঠ্যাংটি
খোঁড়া করে দাও, আর বন থেকে
মায়ের রান্নার কাঠকুটো বয়ে এনে
দাও , তাহলে ছাড়ব, নইলে নয়।
বাঘিনী বললে , সব করব বাবা ,
সব করব ।

ছেলেটা তখন বাঘের মুড়াে বাঘকে
| ফিরিয়ে দিলে । আর বাঘিনীর।
পিঠে চড়ে বাড়ি এসে বললে ,মা ,
মা, দেখে যাও !!
সেই থেকে সবাই তাকে বাঘা বলে
ডাকত।


 

আপনাদের যদি এই কবিতা “বাংলা প্রেমের কবিতা ” পছন্দ হইসে তো প্লিজ একটা লাইক একটা কমেন্ট অরে আপনার পিরিও বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *